বাকৃবিতে হলের সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা, কঠোর পর্যালোচনা করছে প্রশাসন
বাকৃবি প্রতিনিধি
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঘটে যাওয়া একাধিক দফায় সংঘর্ষ ও বিশৃঙ্খলার ঘটনায় তদন্ত সম্পন্ন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে গঠিত তদন্ত কমিটি। একই সঙ্গে ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত থাকার অভিযোগে যে ৪২ জন শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছিল, তাদের জমা দেওয়া জবাবও বর্তমানে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদন ও শোকজের জবাব নিখুঁতভাবে যাচাই-বাছাই শেষে শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বাকৃবি কর্তৃপক্ষ।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি হলের সিট বরাদ্দ, আধিপত্য বিস্তার ও তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একাধিক আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও রক্তক্ষয়ী ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে বহু সাধারণ শিক্ষার্থী আহত হন এবং হলের অভ্যন্তরীণ সম্পদে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। ক্যাম্পাসে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখা ও ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল প্রশাসন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রত্যক্ষদর্শী, হল প্রশাসন ও ঘটনার সাথে যুক্ত বিভিন্ন পক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বিস্তারিত তথ্য ও সুপারিশসহ রিপোর্টটি জমা দেয় কমিটি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম জানান, ক্যাম্পাসে ছাত্র বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সম্পূর্ণ জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। ঘটনার ফুটেজ ও প্রামাণ্য দলিল বিশ্লেষণ করে প্রাথমিক সত্যতার ভিত্তিতে যে ৪২ শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছিল, তাদের দেওয়া ব্যাখ্যাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। কোনো নিরপরাধ শিক্ষার্থী যাতে হয়রানির শিকার না হন এবং প্রকৃত দোষীরা যাতে কোনোভাবেই পার পেয়ে না যায়, তা নিশ্চিত করতেই এই বিচার বিশ্লেষণ চলছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বোর্ডের (ডিসিপ্লিনারি বোর্ড) সভায় শোকজের জবাব ও তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী বহিস্কারসহ চূড়ান্ত শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হবে।