রাজনীতির খরচ কমানো না গেলে দুর্নীতির বাইরে থাকা সম্ভব নয়: হাসনাত আব্দুল্লাহ
ডেস্ক রিপোর্ট
রাজনীতিতে অর্থের ব্যবহার ও নির্বাচনী ব্যয়ের সংস্কার না হলে দুর্নীতি থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে দেশের রাজনীতি, নির্বাচনী ব্যয়, দুর্নীতি ও রাজনৈতিক সংস্কার নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্যের একটি অংশে তিনি বলেন, “রাজনীতির খরচ যদি কমাইতে না পারেন, আপনি কোনোভাবেই দুর্নীতির বাইরে থাকতে পারবেন না।”
হাসনাত আব্দুল্লাহর বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল—রাজনীতিতে অংশগ্রহণের জন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন হলে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অর্থের উৎস ও ব্যয়ের বিষয়টি একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। তাঁর মতে, রাজনৈতিক ব্যয়ের চাপ কমানো না গেলে নির্বাচনী রাজনীতিতে থাকা ব্যক্তিদের ওপর অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হয় এবং সেখান থেকেই দুর্নীতির ঝুঁকি বাড়তে পারে।
তিনি মনে করেন, রাজনীতিকে সাধারণ মানুষের জন্য আরও সহজলভ্য করতে হলে নির্বাচনী ব্যয়ের কাঠামোতে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। অর্থের প্রভাব কমিয়ে যোগ্যতা, জনসম্পৃক্ততা ও রাজনৈতিক কর্মসূচিকে গুরুত্ব দেওয়ার পরিবেশ তৈরি করা জরুরি।
রাজনৈতিক ব্যয় নিয়ে হাসনাতের এই বক্তব্য এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন তাঁর নির্বাচনী ব্যয় নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা ও প্রশ্ন দেখা গেছে। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে তাঁর নির্বাচনী প্রচারে বিপুল অর্থ ব্যয়ের দাবি তুলে প্রশ্ন করা হয়েছে। তবে এসব পোস্টের দাবিকে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এর আগে চলতি বছরের জুনে হাসনাত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে জেলা পরিষদ থেকে ১০ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ নিয়েও আলোচনা হয়। তিনি ওই অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছিলেন। এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনেও তাঁর বক্তব্য উল্লেখ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক অর্থায়ন নিয়ে তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্যে মূলত একটি বিষয়ই গুরুত্ব পেয়েছে—রাজনীতিতে অর্থের প্রয়োজনীয়তা যত বেশি হবে, অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে দুর্নীতির ঝুঁকিও তত বাড়তে পারে। তাই রাজনৈতিক ব্যয় কমানোর পাশাপাশি অর্থায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
হাসনাত আব্দুল্লাহর বক্তব্যের ওই অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে তাঁর বক্তব্যের পূর্ণ প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে দেখার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন অভিযোগ ও দাবিকে যাচাই করে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।