বাকৃবিতে বিএসভিইআর-এর ৩২তম বার্ষিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত
বাকৃবি প্রতিনিধি
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ‘বাংলাদেশ সোসাইটি ফর ভেটেরিনারি এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ’ (বিএসভিইআর)-এর উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী ৩২তম বার্ষিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে আয়োজিত মূল অধিবেশনে দেশ-বিদেশের বিজ্ঞানী, গবেষক ও নীতিনির্ধারকরা প্রাণিসম্পদ খাতের আধুনিকায়ন ও অগ্রগতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যের শুরুতেই বাংলাদেশের মানুষের মাছ ও প্রাণিজ প্রোটিনের চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অসামান্য অবদানকে গভীর কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, দেশের পুষ্টি নিরাপত্তা অর্জনে বাকৃবির শিক্ষক ও গবেষকদের ভূমিকা প্রশংসনীয়।
একই সাথে তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সমবেদনা প্রকাশ করেন।
প্রধান অতিথি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে কাজ শুরু করেছে। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, “স্বাধীনতার মহান ঘোষকের দল বিএনপি একটি আধুনিক, উদার ও গণতান্ত্রিক দল। বাকশালীয় শাসন থেকে বের হয়ে এই দেশের মানুষকে বহুদলীয় গণতন্ত্র উপহার দেওয়া হয়েছিল। ইতিহাস সাক্ষী, যতবার বাংলাদেশের মানুষ নিরপেক্ষভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে, ততবারই তারা বিএনপিকে বেছে নিয়েছে।”
বক্তব্যে জনগণের স্বার্থে নেওয়া বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে বলা হয়, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড প্রদান, কৃষি ঋণ মওকুফ, এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা নিশ্চিত করার মতো সিদ্ধান্তগুলো জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নত করছে।
জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, “বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে যে বন উজাড় করা হয়েছে, তা পুনরুদ্ধারে আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং দেশব্যাপী নদী ও খাল খনন কর্মসূচি চলমান রয়েছে।” তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্বৃতি দিয়ে বলেন—’আমার আগে আমরা, আমাদের আগে দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই আদর্শ হৃদয়ে ধারণ করে সবাইকে দেশের স্বার্থে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
সম্মেলনে জানানো হয়, বিএসভিইআর-এর এ আয়োজনে দেশের বিভিন্ন ভেটেরিনারি শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষক, শিক্ষক, প্রাণিচিকিৎসক, উদ্যোক্তা ও শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছেন।
সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে ১৬টি সমান্তরাল বৈজ্ঞানিক সেশনে মোট ৩১৮টি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে:
মৌখিক উপস্থাপনা: ১১৬টি
পোস্টার উপস্থাপনা: ২০২টি
বিজ্ঞান ও গবেষণাকে কাজে লাগিয়ে প্রাণিসম্পদ খাতের বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং জাতীয় অর্থনীতিতে এর অবদান আরও জোরদার করার আশাবাদ ব্যক্ত করে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়।