সৌদি আরবে সোফা কারখানায় ভয়াবহ আগুন: ১৭ বাংলাদেশির মৃত্যু, বাড়ছে নিহতের আশঙ্কা
নিজস্ব প্রতিবেদক
সৌদি আরবে একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ১৭ জন প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মী নিহত হয়েছেন। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় নিহতদের বেশিরভাগই উত্তরবঙ্গের নওগাঁ ও নাটোর জেলার বাসিন্দা। ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকা জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া, স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে সেখানকার পরিবেশ।
রোববার (০৯ আগস্ট) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করে নওগাঁর জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, অগ্নিকাণ্ডের ফলে প্রাণহানির বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং দ্রুত বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রবাসীদের মারফত জানা গেছে, নিহত ১৭ জনের মধ্যে ১২ জনের বাড়ি নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে। তাঁদের মধ্যে গন্ডগোহালি, ডুবাই, বৈঠাখালি, খনজোর, পারকসুন্দা ও দিঘিরপাড় গ্রামের বাসিন্দারা রয়েছেন। বাকি ৫ জন পার্শ্ববর্তী নাটোর জেলার নলডাঙ্গা উপজেলার খাজুরা গ্রাম ও সংলগ্ন এলাকার অধিবাসী। ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং উদ্ধার তৎপরতা চলমান থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সৌদি আরবে ওই কারখানায় কর্মরত ছুটিতে থাকা এক বাংলাদেশি শ্রমিকের সূত্রে জানা যায়, আকস্মিকভাবে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় কারখানার ভেতর থেকে শ্রমিকরা দ্রুত বের হতে পারেননি। মূলত পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা না থাকা ও দাহ্য পদার্থের উপস্থিতি আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার মূল কারণ হতে পারে বলে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে প্রিয়জনদের মৃত্যুর খবর নিজ নিজ গ্রামে পৌঁছালে সেখানে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। নিহতদের পরিবারের সদস্যরা এখন দ্রুত তাঁদের স্বজনদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য বাংলাদেশ সরকার ও সৌদি দূতাবাসসহ আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার প্রতি আকুল আবেদন জানাচ্ছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিহতদের নিখুঁত তালিকা তৈরি এবং মরদেহ দেশে আনার আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়ে কাজ করছে।