ময়মনসিংহে ডেঙ্গুতে আরও এজনের মৃত্যু, দেশের সার্বিক ডেঙ্গু পরিস্থিতিতে বাড়ছে উদ্বেগ
নিজস্ব প্রতিবেদক
সারাদেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। ময়মনসিংহ অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিনই হাসপাতালে বৃদ্ধি পাচ্ছে নতুন রোগীর সংখ্যা, একই সঙ্গে দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর তালিকা। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি মৌসুমে কেবল এই হাসপাতালেই ডেঙ্গুতে প্রাণ হারালেন মোট ৮ জন।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে ৩৭ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন এবং সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র নিয়েছেন ৪৬ জন। বর্তমানে হাসপাতালে মোট ৯৫ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন—যার মধ্যে ৮৪ জন পুরুষ, ৯ জন নারী এবং ২ জন শিশু। আক্রান্তদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ১ জন পুরুষ রোগীকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে। চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত মমেক হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট ১ হাজার ২১৮ জন ভর্তি হয়েছেন। হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডের সহকারী ফোকাল পারসন মোস্তফা ফয়সাল রাহাত জানান, রোগীদের চিকিৎসায় আলাদা ডেঙ্গু ওয়ার্ড চালু রাখা হয়েছে এবং চাপ বাড়ছে।
একই সময়ে দেশের সার্বিক ডেঙ্গু পরিস্থিতির চিত্রেও অবনতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকাসহ দেশের প্রতিটি বিভাগীয় শহর ও জেলা হাসপাতালেও ডেঙ্গু রোগীর ডেডিকেটেড বেডগুলো দ্রুত পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। পরিসংখ্যান বলছে, বর্ষার পর দেশজুড়ে এডিস মশার লার্ভার ঘনত্ব বৃদ্ধি পাওয়ায় ডেঙ্গু সংক্রমণের হার দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকদের মতে, ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দেওয়ার সাথে সাথে প্লাটিলেট পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ না করা এবং হাসপাতালে দেরিতে আসার কারণেই মৃত্যুর ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতির ভয়াবহতা রোধে শুধু হাসপাতালেই চিকিৎসাসেবা জোরদার করা যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এডিস মশার বংশবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভাগুলোর মশক নিধন অভিযান জোরদার করার পাশাপাশি বাসাবাড়ি ও চারপাশের জমে থাকা পানি অপসারণে সাধারণ মানুষকে সচেতন ও সক্রিয় হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্টরা।