ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ তাপপ্রবাহের মধ্যে ফ্রান্সে ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। দেশটির আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে ফ্রান্সে রেকর্ড পরিমাণ তাপমাত্রা নিবন্ধিত হয়েছে, যা পূর্বের বহু রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। একই সময়ে তীব্র গরমের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ বেড়ে গিয়ে হাজার হাজার পরিবার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ফিনিস্তের (Finistère) এলাকায় একটি ট্রান্সফরমার অতিরিক্ত তাপের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অন্তত ৬৮ হাজার পরিবার বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পরে বিদ্যুৎহীন গ্রাহকের সংখ্যা এক লাখেরও বেশি ছাড়িয়ে যায় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, ফ্রান্সের জাতীয় তাপমাত্রা সূচক ২৯.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। অনেক এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কিছু স্থানে ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি রেকর্ড করা হয়েছে।
তাপপ্রবাহের প্রভাব শুধু সাধারণ মানুষের জীবনেই নয়, জ্বালানি খাতেও পড়েছে। নদীর পানির তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় কয়েকটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়েছে রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ কোম্পানি EDF। এর ফলে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে এবং ইউরোপজুড়ে বিদ্যুতের দামও বেড়েছে।
চরম আবহাওয়ার কারণে স্কুলের কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে, কিছু পর্যটনকেন্দ্রের সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়েছে এবং স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ইউরোপে এ ধরনের তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন এবং তীব্র হয়ে উঠছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি ইউরোপের বিদ্যুৎ অবকাঠামো ও জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের সতর্কবার্তা হয়ে উঠেছে। তাপমাত্রা আরও কয়েকদিন উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।