নেত্রকোনায় রাতের আঁধারে ডেপুটি স্পিকারের উদ্যোগে লাগানো গাছের চারা ধ্বংস
কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
নেত্রকোনার কলমাকান্দায় সড়কের পাশে পরিবেশ রক্ষায় রোপণ করা ৩৫টি বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা এবং সেগুলোর সুরক্ষাবেষ্টনী উপড়ে ও ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দিবাগত রাতের কোনো একসময়ে কলমাকান্দা-নেত্রকোনা আঞ্চলিক প্রধান সড়কের বাবনি এলাকায় এই ন্যক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আঞ্চলিক সড়কের সৌন্দর্যবর্ধনের লক্ষ্য নিয়ে গত ৫ আগস্ট এক বিশেষ সবুজায়ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ওই কর্মসূচিতে উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় পরিবেশপ্রেমী ছাত্র-জনতা অংশ নিয়েছিলেন। কর্মসূচিটির আওতায় সড়কজুড়ে প্রায় পাঁচ শতাধিক বিভিন্ন প্রজাতির উন্নতমানের গাছের চারা রোপণ করা হয়েছিল। কিন্তু রোপণের মাত্র কয়েক সপ্তাহের মাথায় বাবনি অংশ থেকে প্রায় ৩৫টি বাড়ন্ত চারাগাছ ও বাঁশ-কাঠ দিয়ে তৈরি সেগুলোর সুরক্ষাবেষ্টনী রাতের আঁধারে উপড়ে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। বুধবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় এই ক্ষতবিক্ষত দৃশ্য দেখতে পান, যা মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তীব্র অসন্তোষের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ নিন্দা জানিয়ে কলমাকান্দা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. জহিরুল ইসলাম জহির ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জনস্বার্থ ও পরিবেশবান্ধব এই মহতী উদ্যোগটি সহ্য করতে না পেরে কোনো একটি কুচক্রী মহল রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত হিংসাত্মক মনোভাব থেকে এমন জঘন্য কাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারে। গাছ তো কোনো দল বা ব্যক্তির শত্রু নয়, এটি পুরো সমাজের সম্পদ। তিনি অনতিবিলম্বে ঘটনার সঠিক তদন্ত করে চিহ্নিত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
সড়কের বাবনি এলাকার একাধিক বাসিন্দা ও সচেতন নাগরিকরা জানান, চারাগুলো দ্রুত বেড়ে উঠছিল এবং গাছগুলো বড় হলে এলাকার পরিবেশ ও ছায়ানিবিড় সৌন্দর্যের পাশাপাশি সড়কটির ভূমিধস রোধে বড় ভূমিকা রাখত। পরিবেশের এমন শত্রুদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় না আনলে ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষ সমাজ উন্নয়নমূলক ও পরিবেশ রক্ষাকারী কাজে উৎসাহ হারিয়ে ফেলবে।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ সদস্যদের ঘটনাস্থল পরিদর্শনের জন্য পাঠানো হয়েছে। পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ ও তদন্ত করা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও স্থানীয় তথ্যের ভিত্তিতে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুততম সময়ে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।