শিশুদের অপুষ্টি প্রতিরোধ, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি, রাতকানা ও ভিটামিন ‘এ’-এর ঘাটতিজনিত অন্ধত্ব প্রতিরোধে সারা দেশের মতো ময়মনসিংহেও শুরু হয়েছে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬। এ উপলক্ষে রোববার (২৮ জুন) সকালে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে নগরীতে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাইয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের নবনিযুক্ত প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান সরকার (রোকন)।
এ সময় তিনি বলেন, “জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য কর্মসূচি। একটি শিশুও যেন এ সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়, তা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যকর্মী, স্বেচ্ছাসেবী, জনপ্রতিনিধি ও অভিভাবকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। সুস্থ, সবল ও মেধাবী ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তুলতে এই কর্মসূচির সফল বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি।”
ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ক্যাম্পেইন সফল করতে আগে থেকেই সচেতনতামূলক সভা, কর্মপরিকল্পনা ও মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। নগরীর স্থায়ী ইপিআই (EPI) কেন্দ্রের পাশাপাশি বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও জনসমাগমপূর্ণ স্থানে অস্থায়ী কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, যাতে ভ্রমণরত শিশুদেরও সহজে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল প্রদান করা যায়।
ক্যাম্পেইনের আওতায় ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের একটি নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের একটি লাল রঙের উচ্চমাত্রার ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, ভিটামিন ‘এ’ শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে, দৃষ্টিশক্তি রক্ষা করতে, স্বাভাবিক শারীরিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে এবং অপুষ্টিজনিত জটিলতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই নির্ধারিত বয়সের প্রতিটি শিশুকে ক্যাপসুল খাওয়ানোর জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
স্বাস্থ্য বিভাগ আরও জানিয়েছে, নির্ধারিত দিনে কোনো শিশু ক্যাপসুল গ্রহণ করতে না পারলে পরবর্তী সময়ে বিশেষ ব্যবস্থায় তাকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। নগরীর প্রতিটি যোগ্য শিশুর কাছে এ সেবা পৌঁছে দিতে শতভাগ সফলতা অর্জনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
দেশব্যাপী স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান (IPHN)-এর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এবারের জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের আওতায় প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে সারাদেশে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার স্থায়ী কেন্দ্র এবং প্রায় ৫০০টি অস্থায়ী কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। ক্যাম্পেইনের দিনে কোনো শিশু বাদ পড়লে পরদিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং দুর্গম কিছু এলাকায় অতিরিক্ত কয়েকদিন বিশেষ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।