শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ
নেত্রকোণায় জুয়ার আসরঃ যুবদল নেতা, ফায়ার সার্ভিস ও বিজিবি সদস্যসহ আটক ৮ ২ দিন আগে ময়মনসিংহে নানা আয়োজনে বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস উদযাপন: হৃদরোগ ও স্ট্রোক প্রতিরোধে ফিজিওথেরাপির গুরুত্ব নিয়ে সেমিনার ৪ দিন আগে নেত্রকোণার মদনে ওএমএসের ৫ হাজার কেজি চাল পাচারের চেষ্টা: বিএনপি নেতাসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা ৬ দিন আগে তুরস্কের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই গ্রিসের সঙ্গে ৩.৫ বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা চুক্তি ইসরায়েলের ১ সপ্তাহ আগে বাকৃবিতে হলের সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা, কঠোর পর্যালোচনা করছে প্রশাসন ১ সপ্তাহ আগে ডিসি গোল্ডকাপ ফুটবল: ফুলবাড়িয়া ও গফরগাঁওকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ঈশ্বরগঞ্জ ও ময়মনসিংহ সদর ১ সপ্তাহ আগে নেত্রকোনার পূর্বধলায় ছাত্রশিবিরের ‘A+ সংবর্ধনা–২০২৬’ অনুষ্ঠিত ২ সপ্তাহ আগে মাদারগঞ্জে সেচ পাম্পের ঘর থেকে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার ২ সপ্তাহ আগে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশকে নেওয়ার বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করল পাকিস্তান ২ সপ্তাহ আগে নেত্রকোনায় রাতের আঁধারে ডেপুটি স্পিকারের উদ্যোগে লাগানো গাছের চারা ধ্বংস ২ সপ্তাহ আগে

শতভাগ জিপিএ-৫-এর নেপথ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য

শতভাগ জিপিএ-৫-এর নেপথ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য

বিশেষ প্রতিনিধি

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় দেশজুড়ে বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ফলাফলে বিপর্যয় ঘটলেও একেবারেই ভিন্ন চিত্র নরসিংদীর ‘নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমস’-এ। প্রতিষ্ঠানটি থেকে অংশ নেওয়া ৩৮২ জন শিক্ষার্থীর সকলেই জিপিএ-৫ পেয়ে টানা সাফল্যের ধারা অব্যাহত রেখেছে। তবে এই অভাবনীয় ও আকর্ষণীয় ফলাফলের পেছনে রয়েছে কঠোর একাডেমিক নিয়ন্ত্রণ ও কঠোর ছাঁটাই প্রক্রিয়া—যার খবর মিলেছে অনুসন্ধানে।

সারা দেশে যখন শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে এবং পাসের হার নিম্নমুখী, তখন এই স্কুলের শতভাগ জিপিএ-৫ পাওয়ার মূল রহস্য লুকিয়ে রয়েছে তাদের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনি (টেস্ট) পরীক্ষার কঠোর নীতিতে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর প্রতিষ্ঠানটির টেস্ট পরীক্ষায় প্রায় ৯০০ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। তাদের মধ্যে কেবল যারা টেস্ট পরীক্ষায় ‘এ প্লাস’ (GPA 5.00) অর্জন করতে পেরেছে, অর্থাৎ এই ৩৮২ জন শিক্ষার্থীকেই কেবল মূল এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হয়েছে। বাকি প্রায় অর্ধেকেরও বেশি শিক্ষার্থীকে ছাঁটাই করা হয়েছে মূল পরীক্ষা থেকে, যাতে চূড়ান্ত ফলাফলে কোনো প্রভাব না পড়ে।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটিতে পড়াশোনা ও ফলাফলের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের শৈথিল্য বা ফাঁকিবাজির সুযোগ নেই। শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক—উভয় পক্ষকেই অত্যন্ত কড়া নজরদারি ও একাডেমিক চাপের মধ্যে থাকতে হয়।

গাইড টিচারদের মাধ্যমে নিয়মিত হোম ভিজিট, ক্লাস টেস্ট, বিশেষ টিউটোরিয়াল এবং শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক।
প্রতিষ্ঠানের ১৭৪ জন শিক্ষক-শিক্ষিকাকেও নিয়মিত ফলাফলের লক্ষ্যমাত্রা (টার্গেট) পূরণ করতে হয়। জবাবদিহিতা ও কড়া পর্যবেক্ষণের কারণে শিক্ষকদের ওপরও থাকে ব্যাপক মানসিক ও পেশাগত চাপ।

২০০৮ সালে থার্মেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুল কাদির মোল্লা ও তাঁর স্ত্রী নাছিমা বেগম নরসিংদীর ভেলানগরে স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতি বছরই পিইসি, জেএসসি ও এসএসসিতে বোর্ডের সেরা তালিকার শীর্ষে স্থান করে নেয় এই বিদ্যাপীঠটি। এর আগে ২০১৭, ২০১৫, ২০২২ ও ২০২৫ সালেও শতভাগ জিপিএ-৫ পাওয়ার রেকর্ড রয়েছে তাদের।

প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আবদুল কাদির মোল্লার দাবি, পরিচালনা পর্ষদ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের সুদৃঢ় সমন্বয়ের কারণেই এই সফলতা। অন্যদিকে প্রধান শিক্ষক মো. ইমন হোসেনের মতে, আধুনিক দিকনির্দেশনা ও কঠোর অনুশীলনের ফলেই এই ফল অর্জিত হয়।

তবে শিক্ষাবিদদের একাংশের মতে, টেস্ট পরীক্ষায় গণহারে শিক্ষার্থী ছাঁটাই করে কেবল সেরা শিক্ষার্থীদের বোর্ডে পাঠিয়ে শতভাগ জিপিএ-৫ নিশ্চিত করার এই চর্চা প্রতিষ্ঠানের সুনাম বাড়ালেও, পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে কতটা সহায়তা করে—তা নিয়ে বিতর্ক থেকে যায়। তা সত্ত্বেও, শৃঙ্খলার দিক থেকে প্রতিষ্ঠানটির এই কঠোর মডেল বর্তমানে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

Md Mumin

এই প্রতিবেদকের লেখা নিয়মিত পড়ুন বাংলা নিউজ প্রোতে।

৪৫ টি প্রকাশিত লেখা