হামাসের নতুন প্রধান নির্বাচিত ড. খালিল আল-হাইয়া
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র প্রতিরোধ সংগঠন হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর নতুন সর্বাধিনায়ক হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত হয়েছেন ফিলিস্তিনি শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও হাদিস বিশারদ ড. খালিল ইসমাঈল আল-হাইয়া। ‘তুফানুল আকসা’ যুদ্ধ চলাকালে বিগত তিন বছরে সাবেক প্রধান ইসমাঈল হানিয়া এবং পরবর্তীতে ইয়াহিয়া সিনওয়ারকে শাহাদাত বরণ করার পর আজ অভ্যন্তরীণ নির্বাচনের মাধ্যমে সর্বসম্মতিক্রমে ড. খালিল হাইয়াকে এই পদে স্থলাভিষিক্ত করা হয়। হামাসের রাজনৈতিক কাঠামোর প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ধরে তিনি দলটির ষষ্ঠতম রাজনৈতিক প্রধান হিসেবে এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
ড. খালিল আল-হাইয়া ১৯৬০ সালের ৫ নভেম্বর অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব থেকেই ইসলামী দাওয়াহ ও জ্ঞানচর্চার প্রতি গভীর ঝোঁক ছিল তাঁর। তিনি গাজা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামিক স্টাডিজে স্নাতক (অনার্স) ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য জর্ডান যান এবং জর্ডান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘হাদিস বিজ্ঞান’ বিষয়ে স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) সম্পন্ন করেন। এরপর সুদানের ‘ইউনিভার্সিটি অফ দ্য হোলি কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক সায়েন্সেস’ থেকে হাদিস শাস্ত্রের ওপর সম্মানসূচক পিএইচডি (PhD) ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্যে ও বিশ্বজুড়ে সুন্নি আলেমদের মাঝে একজন হাদিস বিশারদ ও প্রাজ্ঞ গবেষক হিসেবে তাঁর বিশেষ পরিচিতি রয়েছে।
১৯৮৭ সালে শেখ আহমেদ ইয়াসিন কর্তৃক হামাস প্রতিষ্ঠারও পূর্বে, ১৯৮০-এর দশকের শুরুতে মুসলিম ব্রাদারহুডের মাধ্যমে তরুণ বয়সেই ফিলিস্তিনের মুক্তিসংগ্রামে যুক্ত হন ড. খালিল হাইয়া। তিনি ফিলিস্তিনের ২০০৬ সালের সংসদীয় নির্বাচনে গাজা সিটি আসন থেকে বিপুল ভোটে ফিলিস্তিনি লেজিসলেটিভ কাউন্সিলের (PLC) সদস্য নির্বাচিত হন এবং দীর্ঘ সময় পার্লামেন্টে হামাসের নেতৃত্ব দেন। পরবর্তীতে গাজায় হামাসের উপ-প্রধান এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির অন্যতম শীর্ষ প্রতিনিধি হিসেবে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর সাথে যুদ্ধবিরতি সংলাপে প্রধান রূপকার হিসেবে কাজ করেন তিনি।
দীর্ঘ চার দশকের রাজনীতি ও জাতীয় মুক্তিসংগ্রামে ড. খালিল আল-হাইয়ার পরিবার অপরিসীম আত্মত্যাগ স্বীকার করেছে। ২০০৭ সালে গাজা সিটিতে তাঁর বাসভবনে এবং পরবর্তী সময়ে বেশ কয়েকটি ইসরায়েলি বিমান হামলায় তাঁর স্ত্রী, তিন সন্তান এবং ভাইসহ পরিবারের একাধিক সদস্য শাহাদাত বরণ করেন। বহুবার হত্যাপ্রচেষ্টা (Assassination Attempt) থেকে রক্ষা পাওয়া এই বীর নেতাকে ফিলিস্তিন আন্দোলনকারীরা ধৈর্যের প্রতীক মনে করেন।
ড. খালিল হাইয়া কেবল একজন সামরিক বা রাজনৈতিক সংগঠক নন, বরং আরব ও মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর সাথে হামাসের কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার অন্যতম প্রধান রূপকার। কাতার, তুরস্ক ও ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে তাঁর সুসম্পর্ক রয়েছে। সংকটময় সময়ে তাঁর ওপর অর্পিত এই গুরুদায়িত্ব আল-আকসা মসজিদ মুক্তিকামী সংগ্রাম এবং গাজার জনগণের ঐতিহাসিক প্রতিরোধ আন্দোলনে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি বিশ্লেষকরা।