ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুদ্ধ কোনো দেশ বা জাতির জন্যই কল্যাণকর নয়। তবে এর অর্থ এই নয় যে ইরান যুদ্ধকে ভয় পায়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের সশস্ত্র বাহিনী ও জনগণ প্রয়োজনে দৃঢ়ভাবে নিজেদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষা করতে সক্ষম।
রোববার তেহরানে অনুষ্ঠিত ৩৩তম মুদ্রানীতি ও ব্যাংকিং সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে পেজেশকিয়ান বলেন, যুদ্ধ অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির পথে বড় বাধা সৃষ্টি করে। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত দারিদ্র্য বৃদ্ধি করে এবং জনগণের জীবনমানকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সব দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।
তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরান কোনো চাপ বা হুমকির কাছে নতি স্বীকার করবে না। তার ভাষায়, “ইরানের জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনী ইতোমধ্যে প্রমাণ করেছে যে তারা নিজেদের অবস্থানে অটল। যদি সংঘাত অব্যাহত থাকে, তাহলে তারাও শক্তভাবে প্রতিরোধ চালিয়ে যাবে।”
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সমঝোতা ও আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতার অধিকাংশ ধারা ইরানি জনগণের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান উদ্বেগ হলো ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন না করে।
পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান বহুবার ঘোষণা করেছে যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো পরিকল্পনা করছে না। তিনি উল্লেখ করেন, দেশটির প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিও বারবার এ অবস্থান তুলে ধরেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র যখন এই অবস্থান লিখিতভাবে নিশ্চিত করার অনুরোধ জানায়, তখন তেহরান তা গ্রহণ করে।
বিশ্লেষকদের মতে, পেজেশকিয়ানের এই বক্তব্যে একদিকে যেমন যুদ্ধ এড়িয়ে কূটনৈতিক সমাধানের প্রতি সমর্থন প্রকাশ পেয়েছে, অন্যদিকে জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে ইরানের কঠোর অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত হয়েছে।