বিদ্যুৎ নিয়ে মন্তব্যের জেরে বিচারকের বিরুদ্ধে বিএনপির বিক্ষোভ ও ভাঙচুর
নিজস্ব প্রতিবেদক
আদালতের এজলাসে বিচারকাজ চলাকালে বর্তমান দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের সমালোচনা করার অভিযোগে চাঁপাইনবাবগঞ্জে এক বিচারকের বিরুদ্ধে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। রোববার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের দ্বিতীয় ভবনের সামনে এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল এবং জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা। এ সময় সংক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা সংশ্লিষ্ট জজের অপসারণ দাবি করার পাশাপাশি বিচারকের এজলাস কক্ষে ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়ের করা একটি মামলায় হাজিরা দিতে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতে উপস্থিত হন। হাজিরা শুনানি চলাকালে উক্ত আদালতের বিচারক মো. উজ্জ্বল হোসেন দেশের চলমান লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে সরকারের সমালোচনা করেন। বিচারিক আসনে বসে এমন রাজনৈতিক ও সরকারবিরোধী মন্তব্য করাকে সম্পূর্ণ অসংগত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন আদালতকক্ষে উপস্থিত নেতাকর্মীরা। তারা অভিযোগ করেন, একজন বিচারক এজলাসে বসে এ ধরনের মন্তব্য করে নিরপেক্ষতার নীতি লঙ্ঘন করেছেন।
পরবর্তীতে আদালত কক্ষ থেকে বেরিয়ে এসেই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব বাবর আলী রুমন এবং জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ফজলে আজিম মিমের নেতৃত্বে আদালতের মূল ভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা বিচারকের কক্ষে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালান এবং ওই বিচারকের তাৎক্ষণিক অপসারণের দাবি জানান। পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হলে নেতাকর্মীরা সংশ্লিষ্ট বিচারক মো. উজ্জ্বল হোসেনকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে প্রত্যাহারের জন্য বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের কাছে ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা বা আল্টিমেটাম বেঁধে দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি মানা না হলে কঠোর কর্মসূচির হুশিয়ারিও দেন তারা।
সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীদের পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম টিপু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এজলাসের ভেতরে বিচারকের বিতর্কিত মন্তব্যের কারণেই আদালত কক্ষ থেকে বের হয়ে নেতাকর্মীরা সংক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ প্রকাশ করেন। এদিকে আদালতের এজলাস কক্ষে ভাঙচুর ও বিচারকের অপসারণ দাবির মতো স্পর্শকাতর ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে আদালত চত্বরজুড়ে সাধারণ বিচারপ্রার্থী ও আইনিজীবীদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত বিচারক মো. উজ্জ্বল হোসেন কিংবা আদালত প্রশাসনের দায়িত্বশীল কারো পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।