ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় পাঁচ বছরের শিশু নিছামনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক নজির স্থাপন করেছে পুলিশ। ঘটনার মাত্র ৯ দিনের মাথায় নিখুঁতভাবে তদন্ত সম্পন্ন করে ময়মনসিংহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়েছে। ঘটনার স্পর্শকাতরতা বিবেচনায় জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে রেকর্ড সময়ে এই আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ জুন বিকেলে ধোবাউড়া উপজেলার টাঙ্গানহাটি গ্রামের নিজ বাড়ির পাশ থেকে নিখোঁজ হয় শিশু নিছামনি। বেশ কিছু সময় খোঁজাখুঁজির পর বাড়ির অদূরে বয়ে যাওয়া কংস নদী থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে সাধারণ পানিতে ডুবে মৃত্যু মনে করা হলেও, রাতেই দাফনের আগে গোসল করানোর সময় শিশুটির শরীরে পাশবিক নির্যাতনের স্পষ্ট চিহ্ন দেখতে পান স্বজনরা। তাৎক্ষণিকভাবে দাফন স্থগিত রেখে ধোবাউড়া থানা পুলিশকে বিষয়টি জানানো হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। তদন্তে উঠে আসে, পাশবিক অত্যাচারের পর ঘটনা ধামাচাপা দিতে অচেতন অবস্থায় শিশুটিকে পানিতে ডুবিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছিল।
এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের পরদিন ১৫ জুন নিছামনির বাবা বাদী হয়ে ধোবাউড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর দ্রুত অভিযানে নেমে পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে আরিফ মিয়া (১৯), রাকিব মিয়া (২১), সাঈম মিয়া (১৯) এবং মারুফ মিয়া (১৯) নামের চার তরুণকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা অপরাধের কথা স্বীকার করে এবং পরবর্তীতে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
মেডিকেল রিপোর্ট, আসামিদের জবানবন্দি ও সংগৃহীত আলামত পর্যালোচনা করে গত ২৩ জুন বিকেলে আদালতে চার আসামির বিরুদ্ধেই নিখুঁত চার্জশিট জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অপরাধীদের দ্রুততম সময়ে সর্বোচ্চ শাস্তির মুখোমুখি করতেই এই রেকর্ড সময়ে তদন্ত শেষ করা হয়েছে।
এদিকে, এই অবর্ণনীয় নৃশংসতার বিচার এবং খুনিদের ফাঁসির দাবিতে ফুঁসে উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দারা। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উপজেলার গোয়াতলা বাজারে বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।