সিআর নির্বাচন নিয়ে মেসেঞ্জার গ্রুপে কথা-কাটাকাটি, বাকৃবিতে দুই দলের সংঘর্ষে আহত ৪
বাকৃবি প্রতিনিধিঃ
ফেসবুক মেসেঞ্জার গ্রুপে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটির জেরে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যায়ে (বাকৃবি) দুই আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত চারজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
শনিবার (১ আগস্ট) দিবাগত রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাওলানা ভাসানী হল ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ সংঘাতের ঘটনা ঘটে। উল্লেখ্য, এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাকৃবি ক্যাম্পাসে আবারও দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলো।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, কৃষি অনুষদের প্রথম বর্ষের (৬৫তম ব্যাচ) ‘এ’ সেকশনের ক্লাস রিপ্রেজেন্টেটিভ (সিআর) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের অফিশিয়াল মেসেঞ্জার গ্রুপে একটি ‘মিম’ পোস্ট দেওয়া হয়। ওই পোস্টের প্রতিবাদ জানিয়ে এক শিক্ষার্থী ব্যক্তিগতভাবে এটি সমাধানের পরামর্শ দিলে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। ব্যক্তিগত পর্যায়ের সেই বিরোধ দ্রুতই দুই আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে প্রথমে মাওলানা ভাসানী হলের শিক্ষার্থীরা সোহরাওয়ার্দী হলের শিক্ষার্থীদের ধাওয়া দেন। এর জেরে পরবর্তীতে সোহরাওয়ার্দী হলের শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে ভাসানী হলে গিয়ে ভাঙচুর চালান। হঠাৎ মাঝরাতে দুই হলের রণক্ষেত্রে পরিণত হওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। সংঘর্ষে আহত চারজনের মধ্যে একজনের মাথায় আঘাত লাগে এবং বাকিদের হাত ও পায়ে জখম হয়।
খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গভীর রাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে পুলিশ ও প্রক্টরিয়াল দলের হস্তক্ষেপে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ হলে ফিরে গেলে ক্যাম্পাস শান্ত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মাহবুবুল প্রতীক সিদ্দিক জানান, “বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় এক হলের শিক্ষার্থীরা অন্য হলে ভাঙচুর চালিয়েছে। তবে পরবর্তীতে প্রক্টরিয়াল টিমের উপস্থিতিতে আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।”
চিকিৎসার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথ কেয়ার সেন্টারের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আমিনুল মতিন বলেন, “সংঘর্ষে গুরুতর কিছু ঘটেনি। মোট ৩-৪ জন শিক্ষার্থী প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন। তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিলেন ভাসানী হলের শিক্ষার্থী। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সবাই হলে ফিরে গেছেন, কাউকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রয়োজন পড়েনি।”