ভেনেজুয়েলায় ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে আঘাত হানা ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে উদ্ধারকারী দল। রাজধানী কারাকাস, উপকূলীয় লা গুয়াইরা এবং আশপাশের এলাকায় বহু বহুতল ভবন, সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ধসে পড়েছে। উদ্ধারকর্মীরা ভারী যন্ত্রপাতি, অনুসন্ধানী কুকুর ও বিশেষায়িত উদ্ধার সরঞ্জাম ব্যবহার করে জীবিতদের সন্ধান করছেন।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত অন্তত ১৮৮ জন নিহত, ১,৫২০ জন আহত এবং প্রায় ২০০ জন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা রয়েছেন। হাজারো মানুষ এখনো নিখোঁজ থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) জানিয়েছে, এটি ১৯০০ সালের পর ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। দুটি ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয় রাজধানী কারাকাসের পশ্চিমে এবং মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে সংঘটিত হওয়ায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়। এরপর অন্তত ২০টিরও বেশি আফটারশক অনুভূত হয়েছে, যা উদ্ধারকাজকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা অঞ্চলকে দুর্যোগ এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি মেট্রো, রেলসেবা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় সরকারি কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।
ভূমিকম্পে হাসপাতাল, সেতু, সড়ক, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। হাজার হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে খোলা জায়গা, স্কুল ও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। আফটারশকের আশঙ্কায় বহু মানুষ এখনও নিজ বাড়িতে ফিরতে সাহস পাচ্ছেন না।
জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, কানাডা, মেক্সিকোসহ বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা উদ্ধারকারী দল, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং মানবিক সহায়তা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ভেনেজুয়েলাকে দ্রুত ও ব্যাপক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। একই সঙ্গে জাতিসংঘ জানিয়েছে, দুর্যোগ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ভেনেজুয়েলার আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ। উদ্ধার অভিযান এখনও অব্যাহত থাকায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির চূড়ান্ত হিসাব প্রকাশে আরও সময় লাগবে। USGS-এর প্রাথমিক মূল্যায়নে সতর্ক করা হয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অত্যন্ত বড় হতে পারে এবং চূড়ান্ত প্রাণহানি বর্তমান সংখ্যার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।